পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষাই হবে

 

 


 

করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে  বছর পরীক্ষা ছাড়াই এইচএসসি পাস করছে সব পরীক্ষার্থী।একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয়ও বিনা পরীক্ষায় শিক্ষার্থী ভর্তির দাবি তুলছেন কেউ কেউ।


আরো পড়ুন: চবিতে এবারও ভর্তি পরীক্ষা হবে

তবে  দাবি নাকচ করে দিয়ে পরীক্ষার মাধ্যমেই শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা।  

শিক্ষার্থী ভর্তি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গতকাল একটি অনলাইন সভার আয়োজন করে  উপাচার্যদের সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ। সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল ওই সভায় বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা অংশ নেন। সভা সূত্রে জানা যায়এইচএসসি  সমমানের পরীক্ষা বাতিলের পর জিপিএর ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির যে দাবি উঠেছিল সেটি নাকচ করে দিয়েছেন উপাচার্যরা। একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সশরীরে পরীক্ষা না নিয়ে অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। তবে অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত  হয়নি। তবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষাই হবে।

 

বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভায় অংশগ্রহণকারীদের একজন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান  প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দীন বণিক বার্তাকে বলেনজেএসসি  এসএসসি পরীক্ষার ফল নয়ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন সব উপাচার্য। তবে পরীক্ষা কোন উপায়ে  বা কোন পদ্ধতিতে নেয়া হবেসে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষাই হবে

 




 অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে অনেকেই মত দিয়েছেন। এখন ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এরপর আমরা ঘন ঘন সভা করব। দ্রুতই অন্য প্রক্রিয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

সভায় অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার ক্ষেত্রে একটি প্রস্তাব তুলে ধরেন বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুনাজ নূর।  বিষয়ে তিনি একটি উপস্থাপনাও দেন। উপস্থাপনায় তার উদ্ভাবিত সফটওয়্যারের কার্যকারিতা উপাচার্যদের কাছে তুলে ধরা হয়। সফটওয়্যার বিষয়ে উপাচার্যরা তাদের মতামত  পরামর্শ তুলে ধরেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মীজানুর রহমান  প্রসঙ্গে বলেনসভায় বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের উদ্ভাবিত সফটওয়্যার প্রটেক্টেড রিমোট এক্সামিনেশন বিষয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরা হয়। এটি প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে ব্যবহার করা হবে। সেখানে সফলতা পেলে অনলাইন ভর্তি পরীক্ষায়ও  সফটওয়্যার ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়  বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে  প্রস্তাব পাঠানো হবে। সেখানে তারা যাচাইবাছাই করবেন।

 

তবে ভর্তি পরীক্ষা সমন্বিত কিংবা গুচ্ছ পদ্ধতিতে হবে কিনাসে বিষয়ে আগে আলোচনা হলে গতকালের সভায়  বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষাই হবে।

প্রসঙ্গত বছর এইচএসসিতে ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৫৮৯ পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করবে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে গত বছর এইচএসসি পাস করেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না হওয়া প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থী। সব মিলিয়ে এবার উচ্চশিক্ষায় ভর্তিযোগ্য শিক্ষার্থী সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১৫ লাখ।